ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে পার পাবে না, চান্দু তোমরা আবার বাউনবাইরা আহো’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২৯ ১২:৪৩:২৬
‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে পার পাবে না, চান্দু তোমরা আবার বাউনবাইরা আহো’ ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে পার পাবে না, চান্দু তোমরা আবার বাউনবাইরা আহো’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার ঘটনা সংসদে ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করেছেন মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার জামিয়া রশিদিয়া ছতরপুর মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন।

 

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইনে কনসার্টে লাউডস্পিকারে গান বাজানো হলো। পুলিশ লাইনের সাথেই হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান হাফি. প্রতিষ্ঠিত জামিয়া দারুল আরকামের ছাত্রদের পড়ায় ব্যাঘাত হচ্ছিল। অভিযোগ করলে এসপি সাহেব লাউডস্পিকার বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। লাউডস্পিকার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ছাত্ররা তাদের ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

 

কিছুক্ষণ পর এসপি সাহেব ডিআইজি সাহেবকে এগিয়ে দিতে গেলে কিছু উগ্র পুলিশ সদস্য আবার জোর আওয়াজে গান বাজনা চালাতে থাকে। তখন ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে আবার বাধা দিতে গেলে কিছু পুলিশ ছাত্রদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে এসপি সাহেব এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চান ও এবং অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ছাত্রদের সকল দাবি মেনে নেন।’

 

রহমতুল্লাহ কাসেমী আরও লেখেন, ‘বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় যায়। অথচ হাসনাত আবদুল্লাহ আজ সংসদে সে বিষয়টি উপস্থাপন করে ছাত্রদের অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেন। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এ তরুণ তাদের সহযোদ্ধা ছাত্রদের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ অভিযোগ করতে দেখে পুরো জাতি বিস্মিত ও হতবাক। আগে দেখতাম বিরোধীদল সবসময় মাজলুমের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ প্রথম দেখলাম বিরোধী দলের এমপি মাজলুমদের অভিযুক্ত করতে! সিনেমা, গান বাজনার পক্ষ নিতে গিয়ে মাদ্রাসার ছাত্র এবং আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শাহবাগী সাজার জন্য জুলাই বিপ্লবে মাদ্রাসার ছাত্ররা তোমাদের সাথে মাঠে নামেননি। জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে গাদ্দারি করে পার পাবে না। মনে রাখবে, ম্যাচ ফিক্সিং এর অপরাধে বহু ক্যাপ্টেন চিরতরে নিষিদ্ধ হতে পারে।’

 

মুফতি লেখেন, ‘এই পচা মালগুলো মস্তিষ্কে এবং কালচারালি এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারকেই রিপ্রেজেন্ট করে শুধু খোলস পাল্টিয়ে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে সময় আসলে আবার ঠিকই আওয়ামী লীগ হয়ে যাবে চান্দু তোমরা আবার বাউনবাইরা আহো।’

 

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

হাসনাত জানতে চান, ‘এই ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’ তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফেসবুকে এর প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টও করেন। এরইমধ্যে শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কওমি শিক্ষার্থীরা।


 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ